রাসূল(সা.) সাক্ষাত প্রত্যাশী ব্যক্তির গল্প
এক জন ব্যক্তি সুন্নতী দাড়ি রেখেছেন যার দাড়ি রাখা দেখে সবাই বিস্ময় প্রকাশ করছে। তাকে উদ্দেশ্য করে কিছু মানুষের মনে যেমন প্রশ্ন ছিল তেমনই অনেকের থেকে পেয়েছেন ঠাট্টা তামাশা।
বলছি নওমুসলিম মুহাম্মদ রাজ ভাইয়ের কথা৷
তিনি তার জীবনের প্রথম অংশে ক্লিন সেভ করতেন৷
যখন তিনি ইসলাম গ্রহনের জন্য নিজেকে সবদিক থেকে প্রস্তুত করতে পেরেছিলেন তখন প্রথমেই তিনি মুসলিমদের বাহ্যিক সুন্নত দাড়ী রেখে দিয়েছিলেন৷ সমাজে অমুসলিম হিসাবে পরিচিত থাকায় সমাজের অনেকেরই উনার দাড়ি রাখা নিয়ে কৌতুহল ছিল।
"এই বয়সে দাড়ি কেন রেখেছো?" -প্রথম এই প্রশ্নটার সম্মুখীন হয়েছিলেন উনি যার বাসায় ভাড়া থাকতেন সেই ভদ্রলোকের।
রাজ ভাইয়ের সহজ জবাব ছিল- "ইসলাম ধর্ম ভালো লাগে তাই"।
এর পর অনেক অমুসলিম ও মডারেট নামধারী মুসলিম দের থেকে মোল্লা,মুন্সি,জঙ্গী,নিঞ্জা,তালেবান ইত্যাদি ঠাট্টা সূচক নাম পেয়েও দাড়ি সুন্নত কে আকড়ে রেখে যেন কাফের-মুনাফিক কর্তৃক আল্লাহর রাসূল কে জাদুকর, কবি, পাগল, গনক বলে ঠাট্টা করা অবস্থায় ধৈর্যধারণ এর সুন্নত টাও পালন করে ফেললেন৷
পরবর্তী অধ্যায়টা ছিল আরো বড় পরীক্ষার৷ আল্লাহ পরীক্ষা নিচ্ছিলেন আমাদের এই প্রিয় ভাইটিকে উনি আল্লাহ ও তার রাসূলকে বেশি প্রধান্য দেন নাকি গর্ভধারিণী মা ও রক্তের সম্পর্কের মানুষদের বেশি প্রধান্য দেন৷
আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহর ইচ্ছায় সম্মানিত ভাইটি এই পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হন৷
উনার মা বলেছিলেন উনি যেন তার পরিবারের কোন ব্যক্তির সাথে দেখা আর কথা না বলে এতে করে উনার দাড়ি রাখা নিয়ে অনেকেই উনার মাকে তিরষ্কার করতে পারে৷ এমনকি দাড়ি কাটার জন্য উনাকে সম্পত্তি হারানোর ভয় ও দেখানো হয়েছিল।
কিন্তু উনি তার পরোয়া করেন নি৷
বরং উনার বক্তব্য এমনটাই ছিল যা একজন প্রকৃত মুমিনের হওয়ার কথা। উনার নিজের মুখের ভাষায় তা ছিল-
"পরকালে জান্নাতের নহরের পাশে হয়ত আল্লাহর রাসূল (সা.) এর সাথে সাক্ষাত হবে। আর তিনি বলবেন দুনিয়াতে দাড়ি রাখতে এতটা প্রতিকূলতা কি করে সহ্য করেছিলে বলতো?
আর আমি উত্তর দিব- ইয়া রাসূল(সা.) আপনাকে ভালোবেসে আপনার মত হওয়ার চেষ্টা করেছিলাম তাই দুনিয়াতে সামান্য প্রচেষ্টা করেছিলাম। আমি তো আপনাকে নিজের চেয়েও হাজার গুন বেশি ভালোবাসতাম"
নওমুসলিম মোহাম্মদ রাজ এর যুবকদের উদ্দেশ্যে করা একটি নসিহত -
" প্রিয় ভাই আজ থেকেই এক মুষ্টি দাড়ি রাখার নিয়্যাত করুন"।

No comments