ওরা আল্লাহর বাহিনী
এ এক অদ্ভুত রোগ! ডাক্তারদের অবস্থা হলো, দুপেয়ে এই পশুটার প্রাণবায়ুটা কোনোরকম বেরিয়ে গেলে তারা হাঁফ ছেড়ে বাঁচল! ওর প্রতিটা মুহূর্ত অতিবাহিত হচ্ছে হেচকা টান দিয়ে দিয়ে! একবার নিঃশ্বাস ফেলার পর আরেকবার তা নেওয়ার আশাই নেই।
এরকম একটি নাজুক, ভয়ানক ও ঝুঁকিপূর্ণ মুহূর্তে হোটেলের নিকটস্থ কোনো একটি ছোট্ট মসজিদের মিনার হতে ভেসে এলো মুআজ্জিনের আজান। মরা লাশের মতো পড়ে থাকা এই অভিশপ্তটা একটু সচকিত হয়ে উঠল! কান খাড়া করে শুনতে চাইল—এটা কীসের আওয়াজ! যখন বুঝতে পারল—এটা মসজিদের মিনার থেকে ভেসে আসা আজানের ধ্বনি, তখন আশেপাশের লোকদের উদ্দেশ্য করে বলল, ‘দেখো! এই লোকটি (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কীভাবে তাঁর নাম ও প্রসিদ্ধিকে চির ওমর করে রেখে গেছে! প্রতিটা মুহূর্তে পৃথিবীর প্রতিটি স্থানে তাঁর নাম বারবার উচ্ছারিত হচ্ছে!’
এরপর সে মিনারটা গুঁড়িয়ে দেওয়ার আদেশ জারি করে! মৃত্যুর বিছানায় শায়িত থাকার পরেও নয়াধমটা তার ‘ইসলামবিদ্বেষ’ ভুলেনি; নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাম সহ্য করতে পারেনি!
মৃত্যুর দোড়গড়ায় পৌঁছেও যে অভিশপ্ত এরকম ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা বলত, আদতে সে ছিল চরম ভীতু! মৃত্যুকে বড় ভয় করত! নিজ পরিণতি নিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত থাকত! তার চারপাশে সার্বক্ষণিক বড় বড় অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের জটলা বাঁধিয়ে রাখত।
এত আয়োজনের পরও সে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে পারেনি। আল্লাহ তাআলা অদ্ভুত এক রোগ দিয়ে অভিশপ্তটাকে দুনিয়াতেই লাঞ্চিত করেছেন। লিভারে আক্রান্ত রোগের কারণে তার পেট থেকে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে সব পানি বের করতে হয়েছিল। মাত্রাতিরিক্ত বহুগামিতার কারণে খবিসটা সিফিলিস রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিল!
শুধু কি তাই! মৃত্যুর আগের দিনগুলোতে সারা শরীরজুড়ে একপ্রকার অদৃশ্য পোকার আক্রমণে অস্থির হয়ে পড়েছিল সে। চুলকানিতে তার গোটা শরীররের রং বদলে গিয়েছিল। কাপড় খুলে সে প্রায় উলঙ্গ হয়ে থাকত! নাক থেকে গলগল করে রক্ত বেরোত! দেহের চামড়া একেবারে বেঙের খোলসের মত হয়ে গিয়েছিল! রক্ত, পুঁজ ও পানি বেরোত সবসময়।
তার শরীর এমন মারাত্মকভাবে পচে গিয়েছিল যে, নাক চেপে ধরেও দুর্গন্ধ সহ্য করা যেত না! চিকিৎসা করার সময় উদ্ভট গন্ধে ডাক্তারদের নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে আসার উপক্রম হতো! তবুও তাদের চিকিৎসা করতেই হতো। আধুনিক কুফরি তুরস্কের জনকের চিকিৎসা বলে কথা!
যন্ত্রণার তীব্রতায় বুভুক্ষু কুকুরের ন্যায় সে ঘেউঘেউ করত! শেষ পর্যন্ত এ রোগ তার চেহারায়ও ছড়িয়ে পড়ে। পরে দেখা যায়—একধরণের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র লাল পিঁপড়ে তাকে কামড়ে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। যে পিঁপড়েগুলোর আসল আবাস সুদূর চীনের বন-জঙ্গলে।
প্রায় দুবছর অসহনীয় যন্ত্রণায় ভোগে জলাতঙ্ক রোগীর ন্যায় ঘেউঘেউ করে ১৩৫৮ হিজরির ১৬ই শাবান মোতাবেক ১৯৩৮ সালের ১০ নভেম্বর অভিশপ্তটা দুনিয়ায় তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়ে যায়।
মৃত্যুর পর তার জানাযার নামাজ নিয়ে বিভক্তি দেখা দেয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জানাযার বিপক্ষে এবং সেনাপ্রধান জানাযার পক্ষে অবস্থান নেন। অবশেষে ‘শরফুদ্দিন আফেন্দি’ নামের এমন এক সরকারি ভাড়াটে মোল্লা তার জানাযার নামাজ পড়ায়, যে নিজেও ছিল জনগণের কাছে নিন্দিত এবং ঘৃণিত!
অবাক বিস্ময়ের ব্যাপার যে, মৃত্যুর পর তুরস্কের শাসনকার্য পরিচালনার জন্য মুস্তফা কামাল পাশা যাকে মনোনীত করে রেখেছিল, সে হলো তৎকালে তুরস্কে নিযুক্ত ইংল্যান্ডের দূত। এত করে সে দুনিয়াবাসীকে প্রমাণ করিয়ে দিয়ে যায় যে, জীবনভর সে ছিল পশ্চিমাদের এক পোষা কুকুর!
ইসলামের দুশমন মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক উসমানি খিলাফত ধ্বংস করার পর তুরস্কের মাটি ও মানুষ থেকে ইসলামের শিকড় উপড়ে ফেলতে গিয়ে যেসব ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড করেছিল, এগুলোর মধ্য থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু কর্মকাণ্ডের আলোকপাত করলাম এখানে—
• পাগড়ি বা টুপি পরা নিষিদ্ধ করা হয়। পরিবর্তে পশ্চিমা অনুকরণে হ্যাট পরিধান করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
• হিজাবকে হাস্যকর পোশাক বর্ণনা করে সরকারি ভবনগুলোতে হিজাব নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়।
• হিজরি ক্যালেন্ডারের পরিবর্তে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার চালু করা হয়।
• আরবিতে আজান দেয়া নিষিদ্ধ করে তুর্কি ভাষায় আজান চালু করা হয় এবং দেশের হাজার হাজার মসজিদে বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হয়।
• জুমাবারের পরিবর্তে শনিবার এবং রবিবারকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন ঘোষণা করা হয়।
• ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে বর্ণনা করা ধারাটি সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া হয়। আতাতুর্কের ধর্মনিরপেক্ষ নীতিমালা সেই স্থান দখল করে নেয়।
• আরবি ভাষার পরিবর্তে ল্যাটিন বর্ণ চালু করা হয়।
• হাজার হাজার আলেমকে হত্যা করা হয়।
• অফিস-আদালতে নামাজ পড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়।
• মাদরাসাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।
• আরবিতে নাম রাখা নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়।
• ইসলামি আচার-অনুষ্ঠান পালনের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
সরকারি নির্দেশে অনেক মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁর এই দুশমনকে ছাড় দেননি; শায়েস্তা করলেন দুনিয়াতে—তাঁর বিদ্রোহী এই অভিশপ্তকে তিনি সুদূর চীনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লালপিঁপড়ে দিয়ে শায়েস্তা করলেন! তিনি কতইনা ক্ষমতাবান! আল্লাহ তাআলা নিজেই বলেন, ‘আপনার পালনকর্তার বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন।’ (সুরা মুদ্দাসসির, আয়াত : ৩১)

No comments