প্রিয়া সাহার অভিযোগ ও বাস্তবতা- শেষ পর্ব
(অভিযোগ - ৩ এর বাস্তবতা)
প্রিয়া সাহার অভিযোগের ৩য় টি ছিল মৌলবাদী মুসলিম দ্বারা তাদের সংখ্যা কমতে চলেছে।
কিন্তু বাস্তবতা সম্পন্নই ভিন্ন৷ অনুপাতের দিক দিয়ে সংখ্যালঘুর সংখ্যা কমলেও জনসংখ্যার দিক দিয়ে সংখ্যালঘুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে৷ আর তাদের অনুপাতের দিকে হার বাংলাদেশ নয় বরং পাকিস্তান এবং ব্রিটিশ দের সময় হতে কমতে শুরু করেছিল৷ অর্থ্যাৎ শুধু মুসলিমদের শাসন আমলে নয় বরং খ্রিস্টান দের শাসন আমল থেকে তাদের আনুপাতিক সংখ্যা কমতে শুরু করেছিল।
এখন দেখব আদমশুমারিতে সংখ্যালঘু গোষ্ঠির হার-
১৯১১ পূর্ব বাংলা - ৩১%
১৯৪১ পূর্ব পাকিস্তান -২৮%
১৯৭৪ বাংলাদেশ - ১৪.৬%
এখানে সংখ্যালঘুদের আনুপাতিক হার কমে গেলেও জনসংখ্যা ঠিকই বেড়েছে৷ অর্থ্যাৎ, সংখ্যালঘু গুম করার মাধ্যমে অনুপাত কমলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াটা সম্ভব হবেনা বরং সংখ্যালঘুর আকার সংখ্যা কমে যেতে হবে। আনুপাতিক হারের পরিমান কমে যাওয়ার বিষয়টি যারা জনসংখ্যা নির্নয় অনুপাতের অংক সম্পর্কে সামান্য জ্ঞান রাখেন তারা সহজেই বুঝতে পারবে৷ আনুপাতিক হার কমে যাওয়ার বিভিন্ন কারন হতে পারে৷ তার মাঝে উল্লেখযোগ্য একটি কারন হলো
(সংখ্যা লঘুদের তুলনায় মুসলিম দের অধিক সন্তান নেয়া ।) এতে করে চক্রের মাধ্যমেই খুব দ্রুত আনুপাতিক এবং সংখ্যা উভয় দিকেই হার বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ অপর দিকে সংখ্যালঘুরা কম সন্তান নেয়াতে আগ্রহী হওয়ায় সংখ্যার দিক দিয়ে সংখ্যা বাড়লেও আনুপাতিক হার বাড়ছে না৷ উদাহরণ হিসাবে আমি আমার নানা(আলতাফ মাষ্টার) ও তার হিন্দু বন্ধু (শ্রীকান্ত মাষ্টার) এর পরিবার নিয়ে সামান্য আলোচনা করলাম পাঠকদের বোঝার সুবিধার্তে...
আমার নানার জীবিত সন্তান মোট = ৯ জন
এবং সেই সন্তানদের প্রত্যেকেরই গড়ে ৩ জন ছেলেমেয়ে আছে৷ তার মানে আমার নানার বংশের সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় -
(নানা+নানী+ ৯ জন সন্তান + ২৭ জন নাতী নাতনি = ৩৮ জন।)
অপরদিকে, আমার নানার বন্ধু শ্রীকান্ত মাষ্টারের সন্তান দুই জন এবং সেই দুই সন্তানের ছেলেমেয়ে ২ জন করে।
এখন শ্রীকান্ত সাহেব এর বংশের সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায়..
(শ্রীকান্ত সাহেব+ উনার স্ত্রী+ উনার ২ জন সন্তান +তাদের ৪ জন ছেলেমেয়ে= ৮ জন)
একই সময়ে যেখানে মুসলিম পরিবারের ৩৮ জন সদস্য হয়েছে ঠিক সেই একই সময় শ্রীকান্ত সাহেব এর পরিবারের সদস্য ৮ জন অর্থ্যাৎ মুসলিম পরিবার থেকে ৩০ জন কম।
ঠিক এই কারনেই সংখ্যালঘুদের আনুপাতিক হার কমছে কিন্তু তাদের আকার/জন সংখ্যা বাড়ছে না।
এ বক্তব্য শুধু আমার নয় বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের চেয়ারপার্সন মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম সংখ্যালঘু দের আনুপাতিক হার কমে যাওয়াকে অস্বাভাবিক মনে করেন না।
তিনি বলছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হার কমলেও আকার কিন্তু কমছে না, বরং বাড়ছে।
কিন্তু আনুপাতিক হার কেন কমছে এমন প্রশ্নে তিনি বলছেন, "সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যদি মুসলিম সম্প্রদায়ের তুলনা করি তাহলে দেখা যাবে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে জন্মহার কিংবা সন্তান বেশি নেবার প্রবণতা বেশি। এটা বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক গবেষণাতেও দেখা গেছে যে মুসলমানদের মধ্যে জন্মহার বেশি। বাংলাদেশেও আমরা ছোট আকারে বিভিন্ন গবেষণায় এটা দেখেছি।"
তিনি বলছেন, একদিকে মুসলিম জনসংখ্যা অনেক বেশি। অন্যদিকে তাদের মধ্যে জন্মহারও বেশি। ফলে তাদের আকার যেমন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি মোট জনসংখ্যায় আনুপাতিক হারেও এটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আকার বাড়লেও আনুপাতিক হার কমছে।
এছাড়াও আমরা ১৯৪১-২০১১ পর্যন্ত ইতিহাস দেখলে সংখ্যালঘু কমে যাওয়ার হার আরো সহজেই বুঝে আসবে৷
ইতিহাস দেখলে বোঝা যায় এই বছরগুলোতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা ঘটে
যেমন - ভারত ভাগ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা,মুক্তিযুদ্ধ , তীর্থভূমি ও পারিবারিক সদস্য ভারতে থাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে দেশত্যাগ ও হিন্দুদের ভারতে গিয়ে বসবাস শুরু।
এসব কারনেও অনেক সংখ্যালঘুর পরিমান কমে যায়। যার সাথে মুসলিমদের কোন সম্পর্ক নাই৷
এ থেকে বুঝা যায় প্রিয়া সাহা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই মিথ্যাচার ছড়িয়েছে৷

No comments